ঝরে যাওয়া,পুড়ে যাওয়াতেই কি কবিতারা লুকিয়ে রয়?

যেই হাসি ঝরে গেছে
তারে নিয়ে লিখবে কবিতা ?
লিখো,তবে কিছু প্রশ্ন,
যে হাসি আজ স্মৃতি সে তো স্মৃতি ছিলনা সবসময়,
তার একটা বর্তমান ছিল,
তার তো কিশোরী একটা বয়স ছিল,
বসন্ত ও ছিল,
জলপ্রপাতের পায়ে পায়ে তার জীবনটা ও বাঁধা ছিল,
তখন তার কতটুকু মূল্য ছিল তোমার কাছে?
তখন একটা কবিতা কি লেখা যেতনা
আমার মুখের পানে চেয়ে?
নাকি তরতাজা হাসিতে কবিতা ঝরেনা?
কেন বলছ আজ,
“তোমার মুখের পানে চেয়ে
তোমার মুখ থেকে যেই হাসি ঝরে গেছে
তার স্মৃতি মনে করে
লিখি আমি একটা কবিতা-ই, নাহয়।”

ঝরে যাওয়া,পুড়ে যাওয়াতেই কি কবিতারা লুকিয়ে রয়?

তোমারেই যেন ভালবাসিয়াছি শতরূপে শতবার যুগে যুগে অনিবার….

আজ খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে পড়লাম।চারদিকে ঠান্ডা হাওয়া।মন ভালো হয়ে যাওয়ার মত সবকিছু। তবুও হৃদয়ের কোথায় যেন ‘মন যেন চায় কারে’ ধরনের একটা শূন্যতা এসে ভর করে।মনে পড়ে গ্রামের ভোরের সূর্যটাকে।তার অরুণ আলোয় আমার তরূণী মনে কত সোনালী সবপ্নের বীজ বুনে দিয়ে যেত!সেই সূর্যটা কোথায়?এখানে এই ইট-সিমেন্টের দালান ভেদ করে সে আমার দরজায় কি ঠোকা দিতে পারেনা?সেটা কি তার জন্য খুব কঠিন?আমাকে ভুলে থাকার চেয়েও কঠিন?জানিনা,জানিনা কেন সে দরজায় কড়া নাড়েনা!কেন  জানালার পাশে তার চরণ চিহ্ণ আমি খুজে পাইনা! চুপি চুপি এসে  কেন সে আমার পিছনে দাড়ায়না!

হা গো আমার  সূর্য, তোমার কি আমার দুয়ারে উঁকি দিতে ইচ্ছে করেনা!একেবারেই কী ভুলে গেছ!চিরতরে! বাকিটুকু পড়ুন

আজ পূর্ণিমা!

আমি আগে কখনো
পূর্ণিমা রাত্রির উত্তাল  জোসনায়
স্নান করিনি ,
তুমিই টেনে নিলে আজ জোসনার রূপালী সরোবরে।

অপরাজিতার  পাঁপড়িতে ছিল অস্তিত্তের নীরব বিচরণ,
জলপাই রং দীপের সপ্নটাকে কোন এক মেঘময় তিথিতে 
ভাসিয়ে দিয়েছিলাম বিস্মরণের জলে,
তুমি আর আসবে না বলে
পুঞ্জীভূত  ভালবাসার অগুণতি মুক্তোকণা পাহাড়ী পাথর হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল ।
কারণ তোমার আসার কথা ছিলনা।
নিশ্চিত জানতাম তুমি আসবে না।
সেই তুমি এলে!
সত্যি এলে।
রডোডেনড্রন গুচ্ছ হয়ে জেগে উঠল আমার ভালবাসারা।
 

তোমার আবির্ভাবে
আজ যুবতী জোসনার সাথে আমার প্রথম বন্ধুতা।
নক্ষত্রের  দীপজলা সুদূর নীলিমায় এঁকে রাখি আল্পনা।
তোমার আবির্ভাবে
আজ হৃদয়ের কথাগুলো বৃস্টির মতন ঝরে পড়ে।
আজ ভোরের নরম সূর্যের মতন সোনালী সপ্নরা এসে  ভীড় করে।
 
আজ পূর্ণিমা!
নিটোল,নিঁখাদ,টলটল জোসনায়  পরিপূর্ণ পূর্ণিমা!
যদিও আকাশে অপূর্ণ কলঙ্কীনী চাঁদ!

সব চিন্তা প্রার্থনার সকল সময় শূন্য মনে হয়

কত কি যে লিখতে চাই কিন্তু লেখা আর হয়ে উঠেনা।এভাবেই কত অনুভূতির মুকুল ঝরে পড়ে। মনের ভেতরের অনুভূতিটাকে ভাষা দিয়ে মূর্ত করে তোলা হয়না আর, তুলতে পারিনা।
কতবার ভেবেছি এলমেলো স্মৃতির
অমলিন পাতাগুলো একটু গুছিয়ে রাখি।কিংবা স্মৃতির শোকেসে থাকনা সাজানো কষ্টের বিমূর্ত ডায়েরীগুলো।কষ্ট যে দেয় সে তো কষ্টটাকে অবহেলা করার জন্য দেয় না।একটু আশা থাকে
সেগুলোকে নির্জন কোন দুপুরে নেড়েচেড়ে দেখব।হয়তো আনমনা হব।কোন পাখিটি সেই দুপুরের নির্জনতা ভেঙ্গে দিয়ে গেল সেটা আর খেয়াল করব না। বাকিটুকু পড়ুন

আজ কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুবার্ষিকী।১৯৫৪ সালের ১৪ই অক্টোবর ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে কলকাতার শম্ভুনাথ হাসপাতালে ভর্তি হন।সেখানেই তিনি মৃত্যুবরন করেন। নির্জন এই কবির জন্ম বরিশালে শহরে ১৮৯৯ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি।বাবা সত্যনন্দ দাশ ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং বরিশাল ব্রাহ্ম সমাজের মুখপত্র ‘ব্রহ্মবাদী’নামের একটি পত্রিকার সম্পাদক ও ছিলেন।মা কবি কুসুমকুমারী দাশ।ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্যে কবি অনার্সসহ বি.এ. (১৯১৯)ও এম.এ.(১৯২১) পাশ করেন।১৯৩০ সালের ৯ই মে বিয়ে করেন লাবণ্য দেবীকে।লাবণ্য দেবী ইডেন গার্লস কলেজের ছাত্রী ছিলেন। বাকিটুকু পড়ুন

আমি একদিন রোদ হয়ে যাব-ঘাস হয়ে যাব। তবে তার আগে-

আমি একদিন রোদ হয়ে যাব-ঘাস হয়ে যাব।
তবে তার আগে-
সবুজ মাঠ,ধানক্ষেত, রুপালী
জ্যোৎস্নার রুঁপচাদা রাতে
যদি ফিরে যাই একবার -শুধু একবার- দীর্ঘ বিরতির পরে।
বুভুক্ষু হৃদয় সেদিন সকল অবসাদ ঝেড়ে ফেলে
নয়ন জুড়ায়ে দেখে যাবে
ঘাসের সাথে শিশিরের প্রেম -কী গভীর প্রেম!-
কত ইতিহাস রচনা করে।
অথবা কোন অচেনা বিহগের সুরে আনমনা দুপুর
বিকেলের বুকে মুখ গুজে দিয়ে বলে উঠে,’প্রিয়া! এ কী !
এ কেমন সুর!
মন যে কেমন করে!’ বাকিটুকু পড়ুন

স্ফীত প্রবাহ

অলস বিকেল। শ্রাবণী জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।শরতের নীল আকাশটা তখন দারুণ লাগছে।সূর্যটা ডুবে যাওয়ার আগে  পৃথিবীকে লাল বেনারসিতে সাজিয়ে দিয়ে  তার সৌন্দর্য অবলোকন করছে ।দূরে -আকাশ যেখানে মাটিতে মিশে গেছে -তার কোল ঘেষে কিছু পাখি নীড়ে ফিরে যেতে চঞ্চল পাখা মেলা দিয়েছে।
কিন্তু শ্রাবণী এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারছেনা।ভীষণ কষ্টে শ্রাবনীর হৃদয়টা ভেঙ্গে যাচ্ছে।।দু’চোখে  লক্ষ্যহীন দৃষ্টি।চোখদুটো দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে ওর কষ্টের গভীরতা।কান্নাটা বুকের ভেতর তোলপাড় করছে বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য।ও প্রাণপণে সেটা চেপে রাখার চেষ্টা করছে।
শ্রাবণী ভাবে প্রকৃতিটার সাথে সাথে মানুষের মনটাও যদি একই রং ধারণ করত তাহলে খুব ভালো হত।এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কখন যে সূর্যটা বিদায় নিয়েছে সে খেয়াল করেনি। যেদিন ও শিমুলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসেছে সেদিন থেকে ওর ভেতরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।কোন কিছুতে মন বসছেনা।নিজের রুমে একা একা বসে থাকছে । কারো সাথে তেমন কথা বলতেও ভাল লাগছেনা।কখনো শিমুলের  সাথে আর দেখা হবেনা,কথা ও হবেনা।এটা তার কাছে কেমন সবপ্ন সবপ্ন লাগছে।অথচ শিমুলের জন্য ওর ভালবাসা একটুও কমেনি। এখনো আগের মতোই সে শিমুলকে ভালবাসে।ও চলে আসার সময় শিমুলের সেকি করুণ চেহারা।বার বার ওর  করুণ  মুখটাই শ্রাবনীর চোখে ভেসে উঠছে।ও শিমুলের কাছ থেকে বিদায় নিলেও শিমুল কিন্তু কাল  দশটায় ওর জন্য ঠিকই অপেক্ষা করবে বলেছে। বাকিটুকু পড়ুন

« Older entries